বাংলাদেশের শ্রমবাজার ক্রমেই বিকশিত হলেও তাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্রমবাজারে নারীর যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
সেভ দ্য চিলড্রেন, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ইউসেপ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘কিশোরী ও যুবতীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বাজার প্রস্তুতির সংস্কার’ শিরোনামে এ সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। সংলাপ অনুষ্ঠানে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য কিশোরী ও যুবতীদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে শ্রম অধিকার সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শ্রমিকের অধিকার ও কল্যাণের পূর্বশর্ত তাকে ভালো কাজের জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলা। আমাদের দেশের প্রত্যেক জেলার বিশেষত্ব পারিবারিক শিল্প অথবা নকশিকাঁথার মতো নারীদের তৈরি কোনো শিল্প। এগুলোকে মাথায় রেখে নির্দিষ্ট জেলার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটা মডেল দাঁড় করাতে পারি। সেটাকে কেন্দ্র করে ওই জেলার শিল্প গড়ার জন্য প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে।’
সংলাপে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। কিশোরগঞ্জ জেলাকে কেস স্টাডি ধরে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। মোট ১ হাজার ৭২৮ কিশোরী ও যুবতীর ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৪ শতাংশ যুবতী নারীই চাকরি খুঁজছেন। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কৌশল জানা না থাকায় পিছিয়ে পড়ছেন তারা। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ কিশোরী ও যুবতীই বলেছেন, তারা উপার্জনের উপায় খুঁজতে সহযোগিতা চান। তবে কীভাবে কী করতে হবে, তা জানেন না তারা।
এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেয়া, শিল্পায়নের স্থানীয়করণ ও ডিজিটাল সাক্ষরতা তৈরিসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়েছে গবেষণায়। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘নানামুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে জেলা পর্যায়ে কিশোরী ও তরুণীদের জন্য চাকরির বাজার অনেক চ্যালেঞ্জিং। এ কারণে শহুরে নারীদের চেয়ে গ্রামীণ নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন।’
সংলাপে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ বলেন, ‘শুধু দক্ষতা তৈরি করলেই হবে না। সমাজে সচেতনতাও তৈরি করতে হবে।’
সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাশেদা কে চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক তানিয়া শারমিন, দ্য আর্থ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান শাকিলা সাত্তার, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক খলিলুজ জামান, উইমেন অন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শীজান খানসহ অনেকে।